July 28, 2026, 8:59 pm

তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব: স্পিকার

  • Update Time : Saturday, July 11, 2026
  • 106 Time View

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার পক্ষে ছিলেন না। তার দাবি, পাকিস্তানি বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কার মধ্যেও তাজউদ্দীন আহমদের অনুরোধ সত্ত্বেও শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে রাজি হননি।

শনিবার ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে জানিয়েছিলেন যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং জনগণ স্বাধীনতা প্রত্যাশা করছে। কিন্তু শেখ মুজিব নাকি জবাবে বলেন, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে চান না এবং পাকিস্তান ভাঙার সঙ্গে নিজের নাম জড়াক, সেটিও তিনি চান না। এ কারণেই তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি বলে মন্তব্য করেন স্পিকার।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও দমন-পীড়নের মুখে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টই প্রথম সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেই সময় মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল। তার দাবি, এটাই ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনা।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল সমগ্র জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ মহল ইতিহাসকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার কৃতিত্ব দাবি করার চেষ্টা করেছে। তার মতে, এটি ইতিহাসের প্রতি সুবিচার নয়।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে প্রায়ই অন্যের অবদান নিজেদের নামে প্রতিষ্ঠার প্রবণতা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে দলীয় নেতার বাইরে অন্য কারও অবদান স্বীকার করতে অনীহা থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টটির মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানরত এসব সদস্য পূর্বপরিকল্পনা বা পারস্পরিক সমন্বয় ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, এই প্রতিরোধই পরবর্তী নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করেছিল।

নিজের সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতিচারণ করে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মূলত ফুটবল খেলার আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের উৎসাহে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, জেনারেল জিয়াউর রহমানই তাকে এই রেজিমেন্টে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

আলোচনার একপর্যায়ে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে রেজিমেন্টের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category